admin
- ৯ মার্চ, ২০২৬ / ৮ Time View

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ত্রিমাত্রিক সাঁড়াশি অভিযান!
Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
নিষিদ্ধ নগরীর পতনঘণ্টা: আকাশ-স্থলপথে সাঁজোয়া যান ও কপ্টার নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ত্রিমাত্রিক সাঁড়াশি অভিযান!
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সংলগ্ন কুখ্যাত ‘নিষিদ্ধ নগরী’ খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরে আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই এক নজিরবিহীন ও ত্রিমাত্রিক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুর্গম এই পাহাড়ি জনপদটিকে চিরতরে সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত করার ইস্পাতকঠিন প্রত্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় কয়েক হাজার সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল এই যৌথবাহিনী একযোগে এই সর্বাত্মক অপারেশনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আকাশপথে ড্রোনের নিবিড় নজরদারি এবং স্থলভাগে সাঁজোয়া যান ও ডগ স্কোয়াডের নিশ্ছিদ্র পাহারার মধ্য দিয়ে পুরো ৩ হাজার ১০০ একরের এই অপরাধের অভয়ারণ্যকে কার্যত একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) খুব ভোরে শুরু হওয়া এই হাই-প্রোফাইল অপারেশনের প্রথম ধাপে ড্রোনের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অপরাধীদের গোপন আস্তানাগুলো নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে চিহ্নিত করা হয়। এরপর একে একে গহিন অরণ্যে প্রবেশ করতে শুরু করে সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সাঁজোয়া যানের বিশাল বহর। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরের কলঙ্ক ঘোচাতে র্যাব-৭, ১১ ও ১৫ এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেট্রো ও রেঞ্জ পুলিশের চৌকস দল এবং বিজিবি সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দুঃসাহসিক ও শ্বাসরুদ্ধকর মিশনে লড়ছেন।
মূলত পাহাড় কেটে অবৈধ প্লট বাণিজ্য এবং বেপরোয়া চাঁদাবাজির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই গহিন অঞ্চলে রুকন এবং ইয়াসিন নামক দুই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর একচ্ছত্র ও রক্তক্ষয়ী আধিপত্য গড়ে উঠেছিল। তাদের দুঃসাহস এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধানকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উল্টো র্যাব সদস্যদের ওপরই চারদিক থেকে ঘিরে ধরে নারকীয় হামলা চালায় তারা। সেদিনের ওই পৈশাচিক হামলায় চারজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে চরম অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়, যার মর্মান্তিক পরিণতিতে প্রাণ হারান র্যাবের এক কর্তব্যরত কর্মকর্তা। সেই বর্বরোচিত ঘটনার চূড়ান্ত জবাব দিতে এবং পাহাড়ের বুকে গড়ে ওঠা এই অবৈধ সাম্রাজ্যের ভিত পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতেই রাষ্ট্রযন্ত্র এবার তার সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে।
ভৌগোলিক দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে বিগত কয়েক দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুর চিহ্নিত অপরাধী ও ফেরারি আসামিদের কাছে এক ধরাছোঁয়ার বাইরের ‘নিরাপদ স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছিল। বর্তমানে এখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা অন্তত দেড় লক্ষাধিক মানুষ ২০ থেকে ২৫ হাজার অবৈধ বসতি গড়ে তুলেছে। এই বিপুল জনসংখ্যার আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন করতে যৌথবাহিনীর এই সুপরিকল্পিত ও বজ্রকঠিন অভিযান চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এক যুগান্তকারী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রশান্তি আনবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছেন সংশ্লিষ্টরা।